কপিরাইটের বেড়াজালে বন্দী ছবি: কপিরাইট অফিসের সঙ্গে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সহযোগিতার সূচনা

Translate this post
ডানদিক থেকে: মুহাম্মদ ইয়াহিয়া, তাউসীফ হাসান, এবং দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস-এর বাইরে, ঢাকা, ১৭ জুন ২০২৬। ছবি: উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ/ সিসি বাই-এসএ ৪.০.

ধরে নিন, আপনি ঢাকার ঠিক মাঝখানে একটি কৃত্রিম হ্রদের বুক চিরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আছেন। স্থপতি লুই কানের নকশায় নির্মিত এই বিশাল কংক্রিটের স্থাপনাকে তার জীবনীকার আখ্যায়িত করেছিলেন, “বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি এবং নিঃসন্দেহে কানের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি” হিসেবে। আপনি ক্যামেরায় ছবিটি তুললেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই মাথায় এলো যে, বাংলাদেশের বর্তমান কপিরাইট আইনের জন্য সেই ছবিটি আপনি উইকিমিডিয়া কমন্সে মুক্তভাবে প্রকাশ করতে পারবেন না।

এই উপলব্ধিই আমাকে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ভাবিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই ভাবনা আমাদের ২০২৬ সালের ১৭ জুন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। সেদিন দেশের কপিরাইট নীতির ইতিহাসে আলোকচিত্র ও মুক্ত মাধ্যমের পক্ষে প্রথম আনুষ্ঠানিক অংশীজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের সেই অধিকার, যা আজ অধুনালুপ্ত

ফ্রিডম অব প্যানোরামা (সংক্ষেপে এফওপি) এমন একটি আইনি বিধান, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে থাকা ভবন, ভাস্কর্য ও অন্যান্য জনশিল্পের ছবি তোলা এবং সেগুলো অবাধে, এমনকি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও, ব্যবহার ও প্রকাশ করার অধিকার দেয়। সহজভাবে বলতে গেলে, যে স্থাপনা সবাই প্রকাশ্যে দেখতে পারে, তার ছবি তুলতে বা ভাগ করে নিতে স্থপতি বা স্বত্বাধিকারীর আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হবে না: এই সাধারণ নীতিকেই আইনি স্বীকৃতি দেয় ফ্রিডম অব প্যানোরামা।

এই অধিকারটি একসময় বাংলাদেশের ছিল। ২০০০ সালের কপিরাইট আইনের ৭২ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, উন্মুক্ত স্থানে থাকা যেকোনো স্থাপত্য বা ভাস্কর্যের ছবি কোনো বাধা-নিষেধ ছাড়াই তোলা ও প্রকাশ করা যাবে। উইকিমিডিয়া কমন্সের বাংলাদেশী অবদানকারীরা বছরের পর বছর ধরে এই আইনটিকে কাজে লাগিয়ে দেশের অসাধারণ সব স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্যকে নথিবদ্ধ করে আসছিলেন। লুই কানের সংসদ ভবন থেকে শুরু করে ঢাকার অলিগলির নানা স্মৃতিস্তম্ভ, সবই ছিল এর আওতায়।

কিন্তু ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কপিরাইট আইন, ২০২৩ কার্যকর হয়। কোনো ধরনের ব্যাখ্যা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই এই নতুন আইন থেকে ফ্রিডম অব প্যানোরামার ধারাটি পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন, যেখানে নিচের অর্ধেক অংশ আড়াল করা হয়েছে: ফ্রিডম অব প্যানোরামা হারিয়ে গেলে বাস্তবে এর কী প্রভাব পড়ে, তারই একটি উদাহরণ। তাউসীফ হাসান অন্তু (সাইফুল অপু এবং নাহিদ সুলতান কর্তৃক তৈরিকৃত আসল সৃষ্টিকর্ম / সিসি বাই-এসএ ৩.০)

এই পরিবর্তনের প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক। বাংলাদেশের ভবন, ভাস্কর্য ও জনশিল্পের আলোকচিত্র একে একে উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে অপসারণ হতে শুরু করে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সংক্রান্ত ছবি আপলোডের সময় ইতিহাসের সেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহনকারী দেয়ালচিত্র ও গ্রাফিতির ১,৬২০টিরও বেশি ছবি মুছে ফেলা হয়। ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা একটি জাতির গণঅভ্যুত্থানের এই অমূল্য দলিলগুলো এভাবেই বিশ্বের মুক্ত জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে হারিয়ে গেল।

যাত্রার শুরু

যদিও আমার অ্যাকাউন্টটি ছয় বছরেরও বেশি পুরোনো, তবে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে আমি গুরুত্ব সহকারে উইকিমিডিয়া প্রকল্পগুলোতে অবদান রাখতে শুরু করি। স্বভাবগতভাবে আমি কিছুটা অন্তর্মুখী, তাই বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে নিজেকে কিছুটা জোরাজুরিই করতে হতো। শুরুর মাসগুলোতে আমি মূলত উইকির নীতিমালা সংক্রান্ত পাতাগুলো পড়তাম। এভাবেই একদিন উইকিমিডিয়া কমন্সে বাংলাদেশের পুরোনো কপিরাইট সংক্রান্ত পাতাটি চোখে পড়ে, যেখানে একটি নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে যে ২০২৩ সালের নতুন আইনটি পর্যালোচনার অপেক্ষায় আছে।

তাই আমি আইনটি পড়তে শুরু করি।

২০২৩ সালের কপিরাইট আইনে আইনগতভাবে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি ধারণাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একটি হলো “স্থাপত্যকর্ম” যা মূলত একটি বাস্তব ভবনকে বোঝায়, যার পাশ দিয়ে আমরা হেঁটে যাই এবং ছবি তুলি। অন্যটি হলো “শিল্পকর্ম” যা মূলত এর নকশাকে নির্দেশ করে, যেমন: ফ্লোর প্ল্যান, ব্লুপ্রিন্ট কিংবা স্কেল মডেল। নতুন আইনের ১৪ নম্বর ধারায় যখন আমি কপিরাইট সুরক্ষাপ্রাপ্ত কাজের তালিকাটি দেখছিলাম, তখন সেখানে “স্থাপত্যকর্মের” কোনো উল্লেখই ছিল না। অর্থাৎ, নতুন আইন অনুযায়ী বাস্তব ভবনগুলো কপিরাইট সুরক্ষার আওতায় পড়ে না বললেই চলে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এক গভীর রাতে আমি এমএস ছাকিবকে টেলিগ্রামে একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে আমার পর্যবেক্ষণের কথা জানাই। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ধরে তিনি আমার যুক্তির প্রতিটি ভিত্তি, প্রতিটি অনুমান এবং সম্ভাব্য দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘ আলোচনার শেষে আমরা নিশ্চিত হই যে যুক্তিটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে এমএস ছাকিব প্রস্তাবটিকে আরও সুসংগঠিত ও পরিমার্জিত করতে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করেন। এরপর ২০২৬ সালের ১১ মার্চ আমি সেটি উইকিমিডিয়া কমন্স ভিলেজ পাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করি।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ও গভীর আলোচনা। এ ক্ষেত্রে আমি বিশেষভাবে JWilz12345-এর প্রতি কৃতজ্ঞ। বার্ন সম্মেলন, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এবং সম্প্রদায়ের ব্যাখ্যার সীমা নিয়ে তাঁর নিরন্তর ও গভীর প্রশ্নগুলো পুরো আলোচনাকে আরও কঠোর ও যুক্তিনির্ভর করে তোলে। তাঁর এই আপসহীন বিশ্লেষণাত্মক মনোভাব না থাকলে হয়তো আমি আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগীই হতাম না। অনেক সময় সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নই সবচেয়ে ফলপ্রসূ সহযোগিতার পথ তৈরি করে।

তবে খুব দ্রুতই আমি উপলব্ধি করি যে, সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা করলেই শুধু হবে না। বিষয়টি নিয়ে সরকারের থেকেও একটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা জরুরি।

৭ এপ্রিল আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করার অনুমতি চেয়ে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সভাপতির কাছে ইমেইল পাঠাই। ১৩ এপ্রিল সংগঠনের মাসিক নির্বাহী সভা শেষে সেই অনুমোদন পাই, পাশাপাশি পুরো সংগঠনের সমর্থনও লাভ করি। সেদিনই ইয়াহিয়া এবং আমি প্রথমবারের মতো কপিরাইট অফিসে যাই। তবে সেখানে গিয়ে দেখি, অফিসের কর্মকর্তারা বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির প্রস্তুতি ও আয়োজনে ব্যস্ত। তবুও তারা আন্তরিকভাবে আমাদের স্বাগত জানান, আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পরে আবার আসতে বলেন।

তার পরের মাসগুলো কেটেছে প্রচুর আলাপ-আলোচনা আর প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে। আমি নিজে আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করি। আর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রগুলো তৈরি করতে সাহায্য করেন নাহিদ সুলতান ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ঢাকা উইকিমিডিয়া মিটআপে আমি ও এমএস ছাকিব সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি। ১৪ জুন নাগাদ আমরা উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কপিরাইট অফিসে জমা দেওয়ার জন্য দুটি আনুষ্ঠানিক চিঠির খসড়া চূড়ান্ত করি। একটি ছিল স্থাপত্যকর্মের আলোকচিত্রের আইনগত অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে, আর অন্যটি ছিল কপিরাইট অফিসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রস্তাব তুলে ধরে।

অবশেষে ১৭ জুনে আমি দেলোয়ার হোসেনইয়াহিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আবার কপিরাইট অফিসে যাই। এবার আমাদের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কী ঘটেছিল

বৈঠকের শুরুতেই কপিরাইট পরীক্ষকের কথা থেকে আমরা আমাদের মূল প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পেয়ে যাই। ২০২৩ সালের কপিরাইট আইনের উদ্দেশ্য কিন্তু এর থেকে ফ্রিডম অব প্যানোরামা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে অধিকারটি কেড়ে নেওয়া ছিল না, বরং এর ধারাগুলোকে “কপিরাইট বিধিমালা” নামে একটি আলাদা সম্পূরক আইনের অধীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকেই এটি করা হয়েছিল। তবে এই উপ-আইনটির খসড়া তৈরি কিংবা পাস করার কাজ এখনো বাকি আছে। বর্তমান আইন নিয়ে তার বিশ্লেষণটি আমাদের সেই আইনি ব্যাখ্যার সাথেই হুবহুই মিলে যায় যা আমরা উইকিমিডিয়া কমন্স সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছিলাম: আর তা হলো, নতুন এই বিধিমালা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যেকোনো বাস্তব ভবনের ছবি তোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তিনি আমাদের এই আনুষ্ঠানিক আবেদনটি কপিরাইট রেজিস্ট্রারের কাছে পেশ করার এবং একটি লিখিত স্পষ্টীকরণ নোটিশ জারির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এরপর কপিরাইট পরীক্ষক এমন একটি বিষয় তুলে ধরেন, যা আমাদের জন্যও ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে আলোকচিত্র বা মুক্ত গণমাধ্যম সম্পর্কিত কোনো নিবন্ধিত অংশীজন সংগঠন নেই। আলোকচিত্রী, ভিডিওগ্রাফার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কিংবা মুক্ত জ্ঞান আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো সংগঠনই এর আগে কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়ে অফিসটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত হয়নি। এর ফলে কপিরাইট সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের সময় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত সম্প্রদায়গুলোর মতামত নেওয়ার সুযোগই সৃষ্টি হয়নি। এমনকি ২০২৩ সাল থেকে যাদের ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে, তারাও এই আলোচনার বাইরে ছিলেন।

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এখন প্রথম সংগঠন হিসেবে এই বড় শূন্যতা পূরণ করতে চলেছে। কপিরাইট পরীক্ষক আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে, ভবিষ্যতে কপিরাইট সংক্রান্ত যেকোনো অংশীজন সভায় উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষ করে, সামনে যে কপিরাইট বিধিমালা তৈরি হতে যাচ্ছে (যেখানে ফ্রিডম অব প্যানোরামা ধারাটি আবার ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে), সেই আলোচনায় অবশ্যই আমাদের রাখা হবে।

আমাদের আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং একটি ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই কপিরাইট রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে এর একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত জবাব পাওয়া যাবে।

আমাদের অর্জন

  • আইনি বিশ্লেষণ ও সম্প্রদায়ের ঐক্যমত
    ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আমরা উইকিমিডিয়া কমন্স সম্প্রদায়ের কাছে ২০২৩ সালের কপিরাইট আইনের একটি আনুষ্ঠানিক আইনি বিশ্লেষণ তুলে ধরি। স্থাপত্যকর্মের কপিরাইট সুরক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কী, তা নিয়ে এই প্রস্তাবের মাধ্যমে সবার মধ্যে একটি কার্যকর ঐক্যমত তৈরি করা সম্ভব হয়। এই বিষয়ে এটিই ছিল প্রথম গোছানো ও জোরালো কোনো আইনি যুক্তি।
  • সাংগঠনিক সমর্থন
    উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কপিরাইট-সংক্রান্ত নীতিগত উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানায়।
  • অংশীজন পরামর্শ
    প্রস্তুতি পর্বে আমাদের আবেদনের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে আমরা দেশের বিভিন্ন আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও নীতি-নির্ধারক অংশীজনদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করি।
  • আনুষ্ঠানিক আবেদন
    ২০২৬ সালের ১৪ই জুন উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দুটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দেওয়া হয়। এর একটি ছিল স্থাপত্যকর্মের ছবি তোলার বিষয়ে আইনি স্পষ্টতা চেয়ে এবং অন্যটি ছিল ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার একটি যৌথ প্রস্তাব।
  • প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক
    ২০২৬ সালের ১৭ই জুন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক ও সফল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
  • অংশীজন হিসেবে স্বীকৃতি
    বাংলাদেশের কপিরাইট নীতির ইতিহাসে আলোকচিত্র ও মুক্ত মাধ্যমের পক্ষে কথা বলার জন্য উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ এখন প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে অংশীজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।

এরপর কী

বর্তমানে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস আমাদের আনুষ্ঠানিক আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রেখেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কপিরাইট রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আইনগত ব্যাখ্যা পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। পাশাপাশি, আসন্ন কপিরাইট বিধিমালা প্রণয়নের অংশীজন পরামর্শসভাগুলোতে উইকিমিডিয়া বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এই বিধিমালাতেই ফ্রিডম অব প্যানোরামা সংক্রান্ত বিধান স্থায়ীভাবে পুনর্বহালের সুযোগ রয়েছে।

আমরা সেখানে এমন একটি স্পষ্ট ও বিস্তৃত ফ্রিডম অব প্যানোরামার ধারার পক্ষে জোরালো দাবি তুলব, যা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বাধা ছাড়াই দেশের সব ভবন, উন্মুক্ত ভাস্কর্য এবং স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে মুক্ত জ্ঞানের পরিধি আরও বাড়াতে আমরা আমাদের অন্যান্য কাজগুলোও সমান্তরালে চালিয়ে যাব। যেমন: পাবলিক ডোমেইনের কনটেন্ট ডিজিটাইজ করা, সরকারি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা সহজ করা, ঐতিহাসিক নথিপত্রের কপিরাইট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাসহ আরও অনেক কিছু।

আপনি যদি বাংলাদেশের একজন উইকিমিডিয়ান হন অথবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থেকে মুক্ত জ্ঞানে বিশ্বাস করেন, তবে আজই এই উদ্যোগে শামিল হোন। কোনো উইকিমিডিয়া আড্ডায় অংশ নিন, কপিরাইট-সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত হোন, কিংবা আপনার নিজের দেশের কপিরাইট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মুক্ত জ্ঞানের বৈশ্বিক আন্দোলন এগিয়ে যায় তখনই, যখন মানুষ নিজেরাই এগিয়ে এসে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা সেই পদক্ষেপ নিতে পেরেছি, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Can you help us translate this article?

In order for this article to reach as many people as possible we would like your help. Can you translate this article to get the message out?